Home শিল্প সমন্বয় সুজয় সাঁতরা ও আইকিওর : স্বাস্থসেবায় এক যুগান্তকারী উদ্যোগ 

সুজয় সাঁতরা ও আইকিওর : স্বাস্থসেবায় এক যুগান্তকারী উদ্যোগ 

সুজয় সাঁতরা ও আইকিওর : স্বাস্থসেবায় এক যুগান্তকারী উদ্যোগ 
সুজয় সাঁতরা ও আইকোর, স্বাস্থ পরিষেবার এক যুগান্তকারী উদ্যোগ।। ছবি : বাসু কর

২০১৮ সালে হান্ড্রেড মোস্ট ইম্পাক্টফুল হেলথ কেয়ার লিডার অ্যাওয়ার্ড এ সম্ভূষিত এক বঙ্গ সন্তান। নাম সুজয় সাঁতরা। স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে যিনি আক্ষরিক  অর্থে এক বিপ্লব এনেছেন। বর্তমান এবং ভবিষ্যতে আঞ্চলিক হোক বা বিদেশে যাতে প্রত্যেকটি মানুষের কাছে চিকিৎসা পরিষেবা ঠিক ভাবে পৌঁছতে পারে সেই লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন সম্ভব হতে চলেছে, তাঁর প্রতিষ্ঠিত আইকিওর টেকসফট সংস্থা দ্বারা। লক্ষ্য- অনুন্নত গ্রামে সাশ্রয়ী মূল্যে উচ্চমানের স্বাস্থ্যসেবা ও শূন্য মৃত্যুহার।  

আইকিওর প্রতিষ্ঠার পূর্বের যন্ত্রণার কথা : 

ছবি সুজয় সাতঁরা // তথ্য – বিসনেস টুডে 

প্রযুক্তির ছাত্র এই বঙ্গ তনয় বিদেশে ওরাকল ও আইবিএম এ বহুদিন কর্মরত হলেও ২০১০ সালে ফিরে আসলেন দেশে। উপার্জনের বিলাসিতায় বদ্ধ না থেকে তুলে নিলেন এক দায়বদ্ধতা। সেটি সামাজিক, মানসিক, পারিবারিক ও আত্মসঙ্কট হতে পারে। ২০১০ সালে তাঁর পিতার মৃত্যু তাঁকে নাড়িয়ে যায় গভীর ভাবে।  পশ্চিম বঙ্গের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে রুগ্ন ভঙ্গুর স্বাস্থ পরিষেবা যার অন্যতম কারণ। ভুল চিকিৎসায় হারিয়ে ফেলা পিতা ও এই মৃত্যুশোক চোখ ফুটিয়ে দেখিয়ে দিয়ে যায় গ্রামীণ স্বাস্থ সেবার করুণ অবস্থা। গ্রামীণ জনসংখ্যা যেখানে ৬৫% অধিক সেখানে শহরে ৭৫% ডাক্তার থাকার কারণে গ্রামাঞ্চলের প্রায় ৬০% সে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। ঠিক এমন এক সময় জন্ম নেয় আইকিওর। পিতার ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু, গ্রামীণ বেহাল স্বাস্থ দশা, উপযুক্ত ও চটজলদি ওষুদের অভাব সব মিলিয়ে এই সমস্যার অভিঘাত থেকে বেড়িয়ে আসার নকশা পত্র শুরু হয়ে থাকে। 

পরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া 

ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুসারে, ভারতে ৫০,০০০ এরও বেশি ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন।। সৌজন্যে আইকিওর

প্রযুক্তির প্রতি প্রেম তার ছিলই, সাথে ছিল নতুন কিছু করার উদ্ভাবনী মানসিক শক্তি।যার দ্বারা তিনি চেয়েছেলিন সামাজিক এক রদ বদল, সবার স্বার্থে সবাইকে নিয়ে,যাদের বিশেষ ভাবে দরকার,সেই প্রয়োজনের প্রিয়জন হয়ে। তিনি দেখলেন স্বাস্থ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অসম্ভব কে সম্ভব করা যায়। সমাজের বিভিন্ন দিককে কাজে লাগিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামেও  প্রয়োজনীয় পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে।  এটাই কি বহুসময় ধরে চলে আসা মানুষের মনের কথা নয় ? শিক্ষা স্বাস্থ্য মৌলিক অধিকার যদি রুগ্ন হয়ে পরে তবে তাকে পুনরুজ্জীবিত করতে দরকার এমন দৃঢ় মানসিকতা ,সামাজিক দ্বায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা এবং প্রযুক্তি ও বিবেকের মেল্ বন্ধন। 

আইকিওরের কর্ম প্রক্রিয়া : 

হমহামারীটি ওপিডি পরিষেবায় একটি বিস্তৃত ব্যবধান তৈরি করেছে ।। সৌজন্যে আইকিওর

WHIMS প্ল্যাটফর্ম ও কমিউনিটি হেলথ এক্টিভিস্ট iCHAs 

 WHIMS প্লাটফর্ম – আইকিওর নিজে ক্লাউড ভিত্তিক পেটেন্ট পেন্ডিং প্লাটফর্ম টি ব্যবহার করে যা সংস্থাটির প্রধান দায়িত্বে বর্তমান। কম ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথে গ্রামীণ সংযোগের জন্য যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে ডাক্তারের উপস্থিতি, চিকিৎসা নির্ধারণ, রোগীর ইতিহাস, ওষুধের দোকানে পর্যাপ্ত ওষুদের ব্যবস্থা, বিভিন্ন স্বাস্থসেবা কেন্দ্র গুলোর সাথে সংযোগ স্থাপন করে।

 আইকিওর প্রশিক্ষ্যিত হেলথ কেয়ার এক্টিভিস্ট iCHAs ডাক্তারদের সাথে প্রাথমিক সংযোগ তৈরী করে বলে রোগ নির্ণয়ের প্রথম পর্বটি সারা হয়ে যায়। এই চালিত সরঞ্জাম দিয়ে প্রাথমিক রোগ নির্ণয় ও চলমান চিকিৎসা ও দীর্ঘস্থায়ী রোগ নির্ণয় সম্ভবপর হয়। 

হাব এন্ড স্পোক মডেল গ্রামীণ স্বাস্থ্য সেবা গুলি কে হাব ক্লিনিক্যের সাথে এবং শহরের বিভিন্ন ডাক্তারদের সাথে সংযুক্ত করে রাখে।  [maxbutton id=”1″]

আইকিওর ভারতের ৯টি রাজ্যে ৬৪০০ টি গ্রামে লক্ষলক্ষ মানুষ কে চিকিৎসা পরিষেবা দিতে সমর্থ হয়েছে। ভবিষ্যতে আরো উন্নয়নমুখী এর বিস্তার দেশে তথা বিদেশে হতে চলেছে। বেঙ্গালুরু থেকে ভিয়েনাম, নাগাল্যান্ডের প্রান্তিক গ্রাম থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ ঘটানোর উদ্যোগ নিয়েছে আইকিওর। 

আরো জানতে পড়ুন https://ikuretechsoft.com/

“ব্যার্থতার মধ্যে দিয়ে বেঁচে থেকে জীবনে জয়ী হওয়া 

পতনের মধ্য দিয়ে সফল হতে শেখা “-

মোট HUBS 9 এবং 160 টাচ পয়েন্টের সংখ্যা।। সৌজন্যে আইকিওরের

লুজিং বিগ উইনিং বিগার বইটির লেখক তিনি। উধৃতিটি  এই বইটির মূল বক্তব্য হিসাবে ধরা যেতে পারে । যা পরে বোঝা যায়, কিভাবে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের মাধ্যমে যুব সমাজকে তিনি উপহার দিয়ে গেছেন তার অভিজ্ঞতার অমূল্য সম্পদ । স্বপ্ন কম বেশি সকলেই দেখে, কিন্তু তাকে সঠিক পরিকল্পনায় রূপ দান করে, দিনের পর দিন ছোট বড়ো বাধা গুলোকে সরিয়ে, লক্ষ্যে উপনীত হয়ে সমাজের কল্যাণ সাধন করা যায়, সুজয় সাঁতরা তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। 

ঠিকানা 

আইকিওর টেকসফ্ট প্রাইভেট লিমিটেড
কর্পোরেট অফিস
১৪১/A যোধপুর গার্ডেন
কলকাতা ৭০০০৪৫
ওয়েস্ট বেঙ্গল
ফোন – ০৩৩-৩৫৫২-২৫৯২
ইমেইল : contactus@ikure.in 

 [molongui_post_meta]

তথ্যসূত্র : –

১) ইওর স্টোরি ডট কম 
২) চেঞ্জ মেকার 
৩) ভিকট্রি টেলস 
৪) রিসার্চ গেট

Previous article বর্ষায় ভ্রমণ: বিশ্বজুড়ে এক নতুন উন্মাদনা! 
Next article রবি ঠাকুরের কলমে বাংলা সাহিত্যের ম্যাজিক রিয়ালিজম
একাধারে সাংবাদিকতা, মানবসম্পদ ও সৃজনশীল মিডিয়ায় সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা নিয়ে দীপান্বিতা আজ এক বহুমুখী লেখিকা। অনলাইন প্রকাশনা, ফিচার রচনা এবং স্ক্রিপ্ট উন্নয়নের ক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতা তাকে তীক্ষ্ণ সম্পাদকীয় দৃষ্টিভঙ্গি এবং গল্প বলার এক অনন্য দক্ষতা প্রদান করেছে। গণ সংযোগ ও মানবসম্পদ উন্নয়নে স্নাতকোত্তর দীপান্বিতা ডকুমেন্টারি স্ক্রিপ্টিং, ব্র্যান্ড স্টোরিটেলিং এবং গভীর গবেষণামূলক লেখায় এক উল্লেখনীয় অবদান রেখেছেন। প্রভাবশালী ব্লগ থেকে শুরু করে আকর্ষণীয় সামাজিক মাধ্যমের কনটেন্ট, বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠকদের চাহিদা অনুযায়ী তার লেখনী শৈলী সবক্ষেত্রেই অনন্য। বিশ্ব বাংলায় তাঁর কাজ স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতির এক প্রতিফলন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here